বেশির ভাগ ছবিতে শুধু ছবিটুকুই থাকে না। ফাইলের ভেতরে মেটাডেটা নামে একগুচ্ছ লুকানো তথ্য থাকে। এতে তারিখ, সময়, কোন ফোন ব্যবহার করেছেন এবং কখনও কখনও ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তা-ও থাকতে পারে। নিজের লাইব্রেরিতে খোঁজার সময় এটা কাজে লাগে। কিন্তু অচেনা কাউকে ছবি পাঠানোর সময় এটা তেমন কাজের নয়।
এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কী কী তথ্য জমা থাকে, কখন তা গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং শেয়ার করার আগে কীভাবে তা সরাবেন। কোনোটাই কঠিন নয়, তবে ঝুঁকি আসলে কোথায়, তা জানা থাকলে সুবিধা হয়।
ছবির মেটাডেটা কী?
মেটাডেটা হলো একটি ফাইল সম্পর্কিত তথ্য, যা ফাইলের ভেতরেই জমা থাকে। ছবির ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত ফরম্যাটের নাম EXIF। ছবি তোলার সময় ক্যামেরা অ্যাপ নিজে থেকেই এটি লিখে রাখে। সাধারণত থাকে তারিখ ও সময়, ফোনের মডেল, ক্যামেরার সেটিংস, ছবির অভিমুখ এবং লোকেশন সার্ভিস চালু থাকলে জিপিএস স্থানাঙ্ক।
ভিডিও ফাইল ও পিডিএফেও একই ধরনের তথ্য থাকে। একটি পিডিএফে লেখকের নাম, যে সফটওয়্যারে তৈরি হয়েছে তার নাম এবং সর্বশেষ কখন সম্পাদনা হয়েছে, তা লেখা থাকতে পারে। এর কিছুই পর্দায় দেখা যায় না, তাই মানুষ ভুলে যায় যে এসব আছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে তোলা সামনের বাগানের ছবিতে স্থানাঙ্ক আকারে আপনার বাড়ির ঠিকানা থাকতে পারে। বিক্রির জন্য রাখা কোনো প্যাকেজের ছবি থেকে আপনি কোন রাস্তায় থাকেন, তা জানা যেতে পারে। সময়ের ছাপসহ কয়েকটি ছবি দেখে বোঝা যেতে পারে আপনি সাধারণত কখন বাইরে থাকেন।
বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের বেশির ভাগই অন্যরা যে কপি দেখেন, তা থেকে লোকেশনের তথ্য সরিয়ে দেয়। তবে এটি অ্যাপভেদে আলাদা এবং বদলাতে পারে, তাই এর ওপর ভরসা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইমেইল সংযুক্তি, ক্লাউড লিংক, সরাসরি ফাইল স্থানান্তর এবং অনেক ফোরাম প্রায়ই মূল ফাইলটি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাঠিয়ে দেয়।
একটি ছবির ক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণত কম। প্রাপক অপরিচিত হলে, ছবি প্রকাশ্যে পোস্ট করলে, কিংবা যে জায়গায় ছবি তোলা হয়েছে তা আপনি গোপন রাখতে চাইলে ঝুঁকি বাড়ে।
একটি ছবি কী প্রকাশ করছে, তা কীভাবে দেখব?
কিছু সরানোর আগে আপনি যাচাই করে নিতে পারেন। ডিভাইসভেদে ধাপগুলো সামান্য আলাদা।
আইফোনে ছবিটি ফটোজ অ্যাপে খুলুন, ওপরে সোয়াইপ করুন বা তথ্যের বোতামে ট্যাপ করুন এবং মানচিত্র ও ফাইলের বিবরণ দেখুন।
অ্যান্ড্রয়েডে গ্যালারি অ্যাপে ছবিটি খুলুন, ওপরে সোয়াইপ করুন বা বিবরণের অপশনে ট্যাপ করুন এবং লোকেশন ও ফাইলের তথ্য দেখুন।
কম্পিউটারে ফাইলটিতে রাইট-ক্লিক করুন, প্রোপার্টিজ বা Get Info খুলুন এবং Details বা More Info অংশ দেখুন।
যদি মানচিত্র, স্থানাঙ্ক বা ক্যামেরা সেটিংসের লম্বা তালিকা দেখতে পান, তাহলে ফাইলটিতে মেটাডেটা আছে। গ্যালারিতে মানচিত্র না দেখা গেলেই যে তথ্য নেই, তা নয়। তাই নিজে পরিষ্কার না করে থাকলে ফাইলটিকে যাচাই না-করা হিসেবে ধরুন।
আমার ফোন যাতে লোকেশন রেকর্ড না করে, তা কীভাবে করব?
সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো শুরুতেই তথ্যটি লেখা বন্ধ করা। দুটি প্রধান ফোন সিস্টেমেই ক্যামেরা অ্যাপ আপনার লোকেশন ব্যবহার করতে পারবে কি না, তা ঠিক করে দেওয়া যায়।
আইফোনে সেটিংস, তারপর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, তারপর লোকেশন সার্ভিসেস খুলুন, ক্যামেরা বেছে নিন এবং অ্যাক্সেস "কখনও না" করুন।
অ্যান্ড্রয়েডে সেটিংস খুলে ক্যামেরা অ্যাপটি খুঁজুন, এর অনুমতিগুলো খুলুন এবং লোকেশন "অনুমতি দেবেন না" করুন। অনেক ক্যামেরা অ্যাপের নিজস্ব সেটিংসেও "লোকেশন ট্যাগ" সুইচ থাকে।
মেনু ভার্সন ও প্রস্তুতকারকভেদে বদলায়, তাই খুঁজে না পেলে সেটিংসে "লোকেশন" লিখে খুঁজুন। এটি বন্ধ করলে শুধু নতুন ছবির ক্ষেত্রে কাজ হয়। আগে তোলা ছবিগুলোর স্থানাঙ্ক আপনি পরিষ্কার না করা পর্যন্ত থেকে যায়।
আমার কাছে থাকা ছবি থেকে মেটাডেটা কীভাবে সরাব?
যে ছবি শেয়ার করতে যাচ্ছেন, তার জন্য ফোনে বিল্ট-ইন সুবিধা আছে। আইফোনের শেয়ার শিটের ওপরে একটি Options বোতাম আছে, যেখানে লোকেশন বন্ধ করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের শেয়ার মেনুতেও কিছু গ্যালারি অ্যাপে এমন বিকল্প আছে, তবে সবগুলোতে নেই।
আরেকটি নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ছবির স্ক্রিনশট নিয়ে সেটি শেয়ার করা। স্ক্রিনশট একটি নতুন ফাইল, তাই সাধারণত এতে মূল ছবির লোকেশন থাকে না। তবে এতে মান কমে যায় এবং স্ক্রিনশট নেওয়ার সময়ের মতো সামান্য নিজস্ব তথ্য থাকতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ নথির চেয়ে সাধারণ শেয়ারের জন্যই এটি বেশি উপযোগী।
কম্পিউটারে উইন্ডোজে ফাইলের প্রোপার্টিজ খুলে প্রোপার্টি ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার অপশন ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাকে প্রিভিউ অ্যাপ লোকেশনের বিবরণ দেখাতে পারে এবং ইন্সপেক্টর থেকে তা সরাতে দেয়। যে টুলই ব্যবহার করুন, পাঠানোর আগে পরিষ্কার করা কপিটি খুলে তার বিবরণ আরেকবার দেখে নিন।
মেটাডেটা সরালে কোন বিষয়ের সমাধান হয় না?
মেটাডেটা সরানো আর ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তা লুকানো এক কথা নয়। রাস্তার নামফলক, বাড়ির নম্বর, মুখ, স্কুলের পোশাক, জানালার প্রতিফলন বা কোনো বিশিষ্ট ভবন থেকেও কেউ বুঝে ফেলতে পারে আপনি কোথায়। শেয়ার করার আগে ছবিটিও ভালো করে দেখে নিন।
ফাইলের নাম থেকেও তথ্য ফাঁস হতে পারে। passport-scan-jane-doe.pdf নামের একটি ফাইল খোলার আগেই অনেক কিছু জানিয়ে দেয়। ব্যক্তিগত তথ্য আছে এমন ফাইলের নাম বদলে ফেলুন। মনে রাখবেন, কপি পরিষ্কার করলে ফোনে থাকা মূল ছবি, ব্যাকআপ বা আগে পাঠানো বার্তা বদলায় না।
কোন অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো?
আগেই ঠিক করে নিন কোন ছবিগুলো ব্যক্তিগত আর কোনগুলো সাধারণ। আপনার বাড়ি, সন্তান, নথিপত্র বা ভ্রমণ পরিকল্পনা সংক্রান্ত যেকোনো ছবির মেটাডেটা সরান এবং ডিভাইস থেকে বের করার আগে ছবিটি দেখে নিন। পরিষ্কার করা কপিটি শেয়ার করুন এবং মূলটি নিরাপদ কোথাও রাখুন।
আপনি যদি সংবেদনশীল ছবি ও নথি Revault-এ রাখেন, তাহলে অ্যাপটি ডাউনলোড করা ছবি, ভিডিও বা পিডিএফ থেকে ব্যক্তিগত মেটাডেটা সরিয়ে দিতে পারে। ভল্টে নতুন ইমপোর্টের জন্যও একই অপশন চালু করতে পারেন। এটি ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকে, প্রতিটি ভল্টের জন্য আলাদাভাবে প্রযোজ্য এবং পুরোনো আইটেম নিজে থেকে পরিষ্কার করে না। ছবিতে দৃশ্যমান মুখ, লেখা বা ল্যান্ডমার্কও এটি লুকাতে পারে না, তাই চোখে দেখে যাচাই করা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।